আর্কাইভ | ঢাকা, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩, ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ ১১:৩৬:৫৩ অপরাহ্ন
Photo
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
১৬ আগস্ট ২০২৬
০৯:৪২:৫৭ পূর্বাহ্ন

হাসিনা ইস্যুতে ভিন্ন সুর ভারতের


ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ বারবার অনুরোধ জানিয়ে আসছে। গত দুই বছরে ভারত এই আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। প্রতি বারই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে। তবে এবার ভারতের ভিন্ন সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকার নয়, দেশটির আদালত নেবে—ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রতিবেদনে এক শীর্ষ ভারতীয় কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যে অভিযোগ ও মামলাগুলো রয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, তা যাচাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই প্রত্যর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


ভারতীয় এক কর্মকর্তা আরও বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশে ফিরলে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে এবং আওয়ামী লীগও বর্তমানে নিষিদ্ধ-এ বিষয়টিও প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় আসতে পারে।


২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। ওই রায়ের পর থেকেই বাংলাদেশ তার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী সময়ে চুক্তিতে সংশোধন আনা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, বিচারিকভাবে অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট শর্তে এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রত্যর্পণের সুযোগ রয়েছে।

তবে রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও হত্যায় প্ররোচনাসহ কয়েকটি গুরুতর অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচনা না করার বিধানও রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর আগে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে চলতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল। তবে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরের জন্য দুই দেশের মধ্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।

ঢাকার পক্ষ থেকে ভারতকে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক আসামিকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ রাখছে। তবে শেখ হাসিনার দিল্লিতে প্রকাশ্য বক্তব্যের কারণে সফরের অনুকূল পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে।