আর্কাইভ | ঢাকা, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩, ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ ০৪:৪৭:২০ পূর্বাহ্ন
Photo
স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
১৫ আগস্ট ২০২৬
০৯:৩৩:৩০ পূর্বাহ্ন

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর


দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এটি একটি সাময়িক সংকট এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি দেশের নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতা বাড়াতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)-কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে চেক বিতরণ এবং দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল আর্থিক দায় এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকারকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার দেনা সরকারের ওপর বর্তেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরই দেশের মাটিতে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ জোরদার করতে বাপেক্সকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি একটি এলএনজি জাহাজ দুর্ঘটনার কারণে গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, বিভ্রান্তি বা অস্থিরতা সৃষ্টি করা নয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে জনগণের স্বার্থে কার্যকর পরিকল্পনা উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে যদি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানের বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পরিকল্পনা থাকে এবং তা স্বল্প সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য হয়, তবে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করতে প্রস্তুত।

সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, প্রতীকী প্রতিবাদের নামে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে। তিনি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্বাস্থ্যখাত নিয়েও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৫০৩টি উপজেলার প্রতিটি হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে এবং বিশেষ করে মা ও শিশুদের চিকিৎসা সুবিধা আরও সহজলভ্য হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, অতীতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা এমন অবস্থায় পৌঁছেছিল যে অনেক মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে দেশের মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের কর্মক্ষমতাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে কী পেলাম, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কী করতে পারলাম, সেটিই আমার সবচেয়ে বড় সার্থকতা।”