আর্কাইভ | ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৪৭ ০৩:৩১:১৩ পূর্বাহ্ন
Photo
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
১৫ জুন ২০২৬
০৯:৩৪:২০ পূর্বাহ্ন
আপডেটঃ
১৫ জুন ২০২৬
০৯:৩৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্র -ইরান সমোঝতা:

সংঘাতের পথে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির লক্ষে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি হওয়ার পর নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কে। চুক্তিটি ইসরাইলের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ও সামরিক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের প্রভাব আরও শক্তিশালী করার আশা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ অবস্থানে ছিলেন নেতানিয়াহু। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে, আর এতে দুই নেতার কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দিয়েছে।

ইসরাইলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই চুক্তি ইসরাইলের জন্য ভয়াবহ। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান পর্যন্ত নেতৃত্বের কেউই এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না।

ওয়াশিংটনের দাবি, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির জন্য আলোচনা হবে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উদ্বেগ, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হবে। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আলোচনার সময়সীমা আরও বাড়তে পারে, ফলে তাদের সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে।

লেবানন ইস্যুতে বারবার মতবিরোধ

চলমান সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে ঘিরে। ট্রাম্প প্রশাসন লেবাননে উত্তেজনা কমাতে চাইলেও নেতানিয়াহু সেখানে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প এক টেলিফোন আলাপে নেতানিয়াহুকে বৈরুত লক্ষ্য করে হামলা না চালানোর নির্দেশ দেন। সেদিন হামলা স্থগিত করা হলেও এক সপ্তাহ পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আবারো হামলা চালায় ইসরাইল। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং ট্রাম্প উভয় পক্ষের সমালোচনা করেন।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষর, আয়োজক পাকিস্তানসুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষর, আয়োজক পাকিস্তান
রোববার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে আবারও বৈরুতে হামলা চালায় ইসরাইল। যদিও ট্রাম্প সীমান্তে সংঘটিত রকেট হামলাকে ‘ছোট ও গুরুত্বহীন’ বলে মন্তব্য করেন।

‘চুক্তির শর্তে বাধ্য নয়’ ইসরাইল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারকটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, এতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় দখলকৃত বাফার জোনগুলোতে ইসরাইলি সেনা অনির্দিষ্টকালের জন্য মোতায়েন থাকবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, লেবাননের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরান যদি ইসরাইলে হামলা চালায়, আমরা সর্বশক্তি দিয়ে জবাব দেব।

চুক্তির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ ৬০ দিনের আলোচনার ওপর নির্ভর করবে। অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন যে দুটি বিষয় যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু উভয়েই বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন সেগুলো বর্তমান আলোচনায় নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে চাপে নেতানিয়াহু

আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কার মুখে থাকা নেতানিয়াহুর জন্য এই চুক্তি নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে দীর্ঘদিন নিজের বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরলেও বর্তমান পরিস্থিতি সেই অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে।

তেল আবিবের কাছে বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী জনাথন রাইনহোল্ড বলেন, নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ইসরাইলি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারবেন না। তার জন্য সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হবে, ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং ইসরাইলের অনুকূলে আবার যুদ্ধ শুরু হওয়া।

রোববার ডিজিটালভাবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে: ভ্যান্সরোববার ডিজিটালভাবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে: ভ্যান্স
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪১ শতাংশ ইহুদি ইসরাইলি মনে করেন ট্রাম্প তাদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন। মার্চ মাসে এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ।

এদিকে ইসরাইলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, ইরান যদি আবার পারমাণবিক বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করে, তবে প্রয়োজনে ইসরাইল একাই ব্যবস্থা নেবে। সূত্র: রয়টার্স