আর্কাইভ | ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৪৭ ০২:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন
Photo
এখন বাংলা ডেস্ক
ঢাকা, প্রকাশিতঃ
০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
১১:৩৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

ধানমন্ডি ৩২ এ ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েও ক্ষোভ-ঘৃণা


ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বাড়িটি ঘিরে এখন উৎসুক আর বিক্ষুব্ধ মানুষের ভিড়। কেউ করছেন ভিডিও, কেউ তুলছেন সেলফি। কারও মুখে শোনা যাচ্ছে শেখ হাসিনার প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা। বাড়িটিকে জাদুঘর করার দাবিও করছেন কেউ কেউ। তৃতীয় দিনে অনেককে বড় বড় হাতুড়ি নিয়ে দেওয়াল ভেঙে রড ও ইট বের করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। 

এছাড়া পোড়া সুধা সদনেও দেওয়াল ছাড়া অবশিষ্ট কিছুই নেই। বৃহস্পতিবার রাতে শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিমের (শেখ সেলিম) বনানীর বাসায়ও আগুন দেয় জনতা। একপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে আশপাশের বাসিন্দারা পাইপের পানি দিয়ে আগুন নেভান।


এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী-এমপিসহ জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের বাসা-বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। কিশোরগঞ্জে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাসভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালীতে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদ এবং ফেনীর সোনাগাজীতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বাড়িতেও হামলা হয়েছে। এছাড়া রাজশাহীর বাঘা, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, ঝালকাঠির রাজাপুর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, পিরোজপুরের নাজিরপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, ভোলাসহ অন্তত ১৬ জেলায় আওয়ামী লীগের ২৫ নেতার বাসা-বাড়ি, আওয়ামী লীগের ৮টি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ১১টি ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটির অল্পকিছু কঙ্কালসার অংশ পড়ে আছে। বাতাসে পোড়া গন্ধ। এরই মধ্যে চলছে বড় বড় হাতুড়ি দিয়ে দেওয়াল ভেঙে রড, লোহা ও ইট সরানোর যজ্ঞ। এ ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনার প্রতি, কেউ জানাচ্ছেন স্বৈরাচারের প্রতি ঘৃণা।

দুপুর ১২টায় মিরপুরের রূপনগর থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এসেছেন আলিম হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি যুগান্তরকে বলেন, এ দেশে ফ্যাসিবাদের ঠাঁই নেই, এমনটাই প্রমাণ করা হলো এই বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়ে। তিনি বলেন, বাড়িটিকে সরকার জুলাই জাদুঘর তৈরি করুক-এমন দাবি জানাই। পাশের ছয়তলা ভবনে কথা হয় নারায়ণগঞ্জের আব্দুর রহিমের সঙ্গে। তিনি একজন শিক্ষক। আব্দুর রহিম বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার পরিণতি দেখতে এখানে এসেছি। তিনি বলেন, গুঁড়িয়ে দিয়ে ভালো করেছে ছাত্র-জনতা। এটি একটি নজির হয়ে থাকবে। তিনি শেখ হাসিনার প্রতি তীব্র ঘৃণা জানান।